চোখের অ্যালার্জিঃ  প্রতিরোধ ও প্রতিকার

অ্যালার্জি একটি অতি পরিচিত চোখের রোগ; তবে তা মৃদু থেকে গুরুতর হতে পারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত যে কোনো বয়সেই চোখের অ্যালার্জি হতে পারে। এই রোগের উপসর্গ সাধারণত চোখ চুলকানো, পানি পড়া, আলো-সংবেদনশীলতা, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি। 
প্রতি চারজনে একজন চোখের অ্যালার্জিজনিত সমস্যায় ভোগেন। এটি চোখের সাধারণ একটি অসুখ, তবে ছোঁয়াচে নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যালার্জির সমস্যা পুরোপুরি দূর করা যায় না; তবে প্রতিরোধ করা যায়। 

অ্যালার্জির কারণঃ 
অ্যালার্জি কোনো জীবাণুর নাম নয়। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনো গণ্ডগোল হলে অ্যালার্জি দেখা দেয়। কোনো জিনিসকে শরীর নিরাপদ মনে না করলে সেটার প্রতি সংবেদনশীলতা বেড়ে যায়। তখন ওই বস্তু শরীরের সংস্পর্শে এলে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানো, ফুলে যাওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। 

চোখে অ্যালার্জির কারণঃ 
অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বস্তু চোখের সংস্পর্শে নানারকম প্রতিক্রিয়া হয়। এরই নাম অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস। কিছু খাবারের কারণেও চোখের অ্যালার্জি হতে পারে। যেমন- ইলিশ মাছ, চিংড়ি, গরুর মাংস, হাঁসের ডিম, পুঁইশাক, কচুশাক, কচুর লতি, বেগুন ইত্যাদি। 
এছাড়াও চোখে ব্যবহার্য প্রসাধনী, ফুলের রেণু, ধুলাবালি, পোকামাকড় ইত্যাদি চোখে প্রবেশ করলে, এমনকি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও চোখে অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস হতে পারে। 

চোখের বিভিন্ন ধরণের অ্যালার্জিঃ

ছবিঃ সংগৃহীত
  • পেরেনিয়াল অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস: এটি সারাবছর ধরেই কমবেশি হতে দেখা যায়। সাধারণত লেপ, তোশক, কাঁথা ইত্যাদি থেকে এটি হয়।
  • সিজনাল অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস: এর প্রকোপ বাড়ে শীতের শেষ দিকে। বাতাসে ভেসে বেড়ানো রেণু, ধুলা ইত্যাদি অ্যালার্জেন চোখ ও নাকের সংস্পর্শে এলে চুলকানি হয়, চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ ফুলে যায়, নাক দিয়ে সর্দি ঝরে। 
  • ভারনাল কেরাটো-কনজাংটিভাইটিস: ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে এটি বেশি হয়। সাধারণত ছোটরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ঠিকমতো চিকিৎসা না করলে কর্নিয়া বা চোখের মণিতে ক্ষত তৈরি হতে পারে।
  • অ্যাটোপিক কেরাটো-কনজাংটিভাইটিস: বয়স্করা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। যাদের ত্বকের প্রদাহ বা ডার্মাটাইটিস আছে তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। সারা বছরই এ রোগ হতে পারে।
  • কন্টাক্ট অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস: যারা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন তাদের এটি বেশি হয়। এ ক্ষেত্রে চোখ লাল হয়, প্রচণ্ড চুলকায়, লেন্স পরলে অস্বস্তি হয়, চোখ থেকে পানি ঝরে।
  • জায়ান্ট প্যাপিলারি কনজাংটিভাইটিস: কন্টাক্ট অ্যালার্জির একটি মারাত্মক ধরন এটি। এ ক্ষেত্রে চোখ চুলকায়, চোখ ফুলে যায়, পানি ঝরে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়, মনে হয় চোখে কিছু আটকে আছে, চোখ থেকে মিউকাস ঝরে। 
ছবিঃ সংগৃহীত

চিকিৎসা ও প্রতিকারঃ
অ্যালার্জির চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রতিকারই মুখ্য। মনে রাখতে হবে যে, উপরে উল্লেখিত অ্যালার্জেনগুলোর সব একজনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। 
বিভিন্ন জনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম অ্যালার্জেন দায়ী। কারো গরুর মাংস খেলে অ্যালার্জি হয়, আবার কারো হয় ইলিশ মাছ খেলে। তাই প্রথমে বের করতে হবে কীসে অ্যালার্জি হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী দায়ী উপাদান উপাদান থেকে দূরে থাকতে হবে। ধুলাবালি থেকে চোখ রক্ষার্থে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে ধারণা করে কোনো ওষুধ ব্যবহার করা যাবেনা।

Leave a Reply

🛠️ Change