আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হল চোখ। দৃষ্টিশক্তি না থাকলে পৃথিবী অন্ধকার। আজকাল আমরা কমবেশি সবাই নানারকম চোখের সমস্যায় ভুগি। আর প্রযুক্তির কল্যাণে সারাদিন কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইলের সামনে বসে কাজ করায় চোখের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ ক্লান্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও এখন বড়দের পাশাপাশি ছোটরাও নানান চোখের সমস্যায় ভোগে। অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদেরকেও মোটা লেন্সের চশমা পরতে দেখা যায়। তাই শরীর ভালো রাখতে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্যের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বেশি কিছু নয়, আমরা যদি শুধু প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনি, তাহলেই চোখের সমস্যা অনেকখানি এড়ানো যায়। চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পুষ্টিবিদরা বেশকিছু খাবারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন- 

১। রঙিন ফল ও সবজিঃ 
চোখের স্বাস্থ্যের জন্য বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার সবচেয়ে উপকারী। প্রায় সব কমলা রঙের সবজি ও ফলে বিটা-ক্যারোটিন থাকে। এই বিটা-ক্যারোটিন অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, যা ছানি পড়া ও বয়সজনিত চোখের সমস্যার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। সবজির মধ্যে টমেটো, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, এসবে প্রচুর পরিমান বিটা-ক্যারোটিন থাকে। এছাড়াও মিষ্টি আলু এবং লাউ জাতীয় সবজিতেও বিটা-ক্যারোটিন রয়েছে। ফলের মধ্যে আম, তরমুজ, বাঙ্গি এবং বেরিজাতীয় ফলে বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায়। 

২। সবুজ শাক সবজিঃ 
পালং শাক, বাঁধাকপি, ব্রকলি এবং অন্যান্য সবুজ শাক সবজির ভেতর থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চোখের ছানি ও ম্যাকুলার ক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে চোখের রেটিনাকে রক্ষা করতে সাহায্য করে সবুজ শাক।

৩। ভিটামন সি সমৃদ্ধ ফলঃ 
ভিটামিন সি চোখের ক্ষতি এবং চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়। তাই প্রতিদিন প্রত্যেকের খাবার তালিকায় ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল থাকা বাধ্যতামূলক। কমলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এছাড়াও আম, পেয়ারা,পেঁপে, আঙুর, লেবু ‍ও জামজাতীয় ফলেও প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি থাকে। 

৪। বিভিন্ন ধরণের বীজ ও বাদামঃ 
চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন ই এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড খুবই দরকারি। এসবের বড় উৎস হচ্ছে বাদাম এবং বিভিন্ন ধরণের বীজ। দৈনিক ভিটামিন ই এর চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিন একমুঠো কাজুবাদাম, আখরোট, পেস্তা বাদাম, সূর্যমুখী বীজ বা অন্য যেকোনো বাদাম কিংবা বীজ  খেতে পারেন।

৫। ছোটমাছ এবং সামুদ্রিক খাবারঃ 
ছোটমাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে যা রাতকানা রোগ এবং অন্ধত্বের ঝুঁকি কমায়। চোখের পাশাপাশি মস্তিষ্ক ও হার্টের সুস্বাস্থ্যে গুরুত্বপ‍ূর্ণ ভূমিকা পালন করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। স্যামন, কাঁকড়া ও ঝিনুকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এসব খেতে পারলে শুধু দৃষ্টিশক্তিই নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব। 

৬। ডিমঃ 
ডিমকে বলা হয় সুপারফুড। ডিমে আছে ভিটামিন এ এবং লিউটেন যা রেটিনার সুস্থতায় সহায়ক, আর ভিটামিন এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে জরুরি। 

৭। দুধ ও দুধজাতীয় খাবারঃ 
দুধ, দই এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারে ভিটামিন এ, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে। শরীরের অন্যান্য উপকারের পাশাপাশি ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়াকে ভাল রাখে, আর জিঙ্ক চোখের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়। 

৮। খেজুরঃ
জানেন কি, ডিমের মতো খেজুরও একটি সুপারফুড! শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হার্টরেট ঠিক রাখতেও খেজুরের তুলনা নেই। এছাড়াও খেজুরে বিদ্যমান ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও লিউটেন রেটিনা তথা চোখের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। 

সবশেষে একটি কথা না বললেই নয়, চোখ আমাদের শরীরের এমন একটি অংশ, যাকে সবসময় আর্দ্র রাখা প্রয়োজন। তাই চোখ ভালো রাখতে উপরে উল্লেখ করা খাবারগুলোর পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।