অ্যান্টি ব্লু লাইট লেন্স নিয়ে কথা বলতে গেলে প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ব্লু লাইট বা নীল আলো সম্পর্কে।
আমরা যে আলো দেখি অর্থাৎ দৃশ্যমান আলোতে রংধনুর সাতটা রঙই থাকে। বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, লাল সবগুলোই। এদের মধ্যে লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশী আর বেগুনী আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যতো বেশি, তার শক্তি বা এনার্জি ততো কম। আর যে আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যতো কম, তার শক্তি ততো বেশি। সেই হিসেবে বেগুনী আলোর শক্তি সবচেয়ে বেশী, লাল আলোর সবচেয়ে কম। শক্তির বিচারে নীল আলোর শক্তি শুধু বেগুনী রঙের থেকে কম। বেশী শক্তির কারণে এই বেগুনী বা নীল রঙের আলোকে High Energy Visible Light বা HEV লাইট বলা হয়।

নীল আলো নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। তবে গবেষণায় এখনো প্রমাণ মেলেনি যে স্ক্রিনের নীল আলো চোখের স্থায়ী ক্ষতি করে। মনে রাখবেন, স্ক্রিনের নীল আলো দিনের সূর্যের আলোর তুলনায় অনেক কম। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে চোখ যে ক্লান্ত লাগে, তার মূল কারণ হলো একটানা তাকিয়ে থাকা আর কম পলক ফেলা।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে দিনেরবেলা হলো কাজ করার সময় আর রাত হলো বিশ্রাম নেবার বা ঘুমানোর সময়। নীল আলো ঘুমানোর হরমোন মেলাটোনিন এর ক্ষরণ কমিয়ে দিয়ে আমাদের সজাগ করে রাখে। তাই দিনেরবেলা সূর্য থেকে প্রচুর পরিমাণে নীল আলো এসে আমাদের চোখে ঢুকলেও তা আমাদের শারীরবৃত্তীয় চক্রের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না। কিন্তু রাতে দীর্ঘক্ষণ ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে অনেকের ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমানোর আগে স্ক্রিন কম ব্যবহার করা এবং নাইট মোড চালু রাখা ভালো অভ্যাস।

আমরা প্রতিদিন যেসব ডিসপ্লে ডিভাইস ব্যবহার করি, যেমন টেলিভিশিন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ইত্যাদি থেকে নীল আলো নির্গত হয়। অ্যান্টি ব্লু লাইট লেন্সে বিশেষ কোটিং থাকে, যা স্ক্রিনের নীল আলোর একটি অংশ ফিল্টার করে। অনেকেই দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাজ করার সময় এই লেন্সে দেখতে বেশি আরাম পান, কারণ স্ক্রিনের আলো একটু উষ্ণ দেখায়। তবে ২০২৩ সালের একটি বড় গবেষণা পর্যালোচনায় (Cochrane) দেখা গেছে, চোখের ক্লান্তি কমাতে বা ঘুম ভালো করতে এই লেন্স সাধারণ লেন্সের চেয়ে বেশি কার্যকর, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

তাই আপনি যদি দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ফোনে কাজ করেন এবং স্ক্রিন দেখতে একটু বেশি আরাম চান, অ্যান্টি ব্লু লাইট লেন্স বেছে নিতে পারেন। পাওয়ার থাকলে প্রেসক্রিপশন লেন্সেও এই কোটিং যোগ করা যায়। আর চোখের ক্লান্তি কমাতে মেনে চলুন ২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকান। চোখে সমস্যা থাকলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান।